Mohananda Brahmachari: বিশ্বখ্যাত বাঙালি ধর্মগুরু! বহু রাষ্ট্রনেতা ছিলেন শিষ্য, এই দিনে প্রয়াত হন মোহনানন্দ ব্রহ্মচারী

Mohananda Brahmachari: আন্তর্জাতিক বাঙালি এই ধর্মগুরুর শিষ্য ছড়িয়ে আছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। নানা দেশের বহু রাষ্ট্রনেতা তাঁর শিষ্য। তাঁর ব্যাপারে জেনে নিন বিস্তারিত।

Mohananda Brahmachari: আন্তর্জাতিক বাঙালি এই ধর্মগুরুর শিষ্য ছড়িয়ে আছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। নানা দেশের বহু রাষ্ট্রনেতা তাঁর শিষ্য। তাঁর ব্যাপারে জেনে নিন বিস্তারিত।

author-image
IE Bangla Lifestyle Desk
New Update
Mohananda Brahmachari

Mohananda Brahmachari: বালানন্দ ব্রহ্মচারী ও মোহনানন্দ ব্রহ্মচারী।

Mohananda Brahmachari: ভারতের আধ্যাত্মিক জগতে মোহনানন্দ ব্রহ্মচারীর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। তিনি শুধু একজন যোগী বা ধর্মগুরুই নন, বরং ছিলেন সমাজে আধ্যাত্মিক শক্তির আলোকবর্তিকা। তাঁর জীবনযাত্রা আজও অসংখ্য ভক্তকে প্রেরণা জোগায়। 

বালানন্দ ব্রহ্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ

Advertisment

মোহনানন্দ ব্রহ্মচারীর পূর্বাশ্রমের নাম ছিল মনোমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৭ ডিসেম্বর ১৯০৪ সালে, তৎকালীন অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার কর্ণগড়ে। তাঁর পিতা হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট এবং মা বিনয়নী দেবী ছিলেন ধর্মপ্রাণা গৃহিণী। পরিবার ছিল একান্তভাবে আধ্যাত্মিকতায় ভরপুর।

আরও পড়ুন- মেডিক্লেম রিনিউ করার আগে এগুলো অবশ্যই জানুন, না হলে পস্তাবেন!

Advertisment

তাঁর জন্মের সময়েই গুরু শ্রীশ্রী বালানন্দ ব্রহ্মচারী উপস্থিত ছিলেন। তবে গুরু-শিষ্যের সরাসরি সাক্ষাৎ ঘটে কিছুটা পরে, যখন ছোট্ট মনোমোহনকে নিয়ে তাঁর বাবা-মা দেওঘর আশ্রমে যান। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন ভিন্ন ধাঁচের—বন্ধুরা খেলাধুলোয় ব্যস্ত থাকলেও মনোমোহন মন দিতেন পড়াশোনায় ও সঙ্গীতে। রবীন্দ্রসংগীতে তাঁর বিশেষ ঝোঁক ছিল। 

আরও পড়ুন- 'পাকিস্তানের চর'! স্টিফেন হাউস প্রচার, জানুন অতুল্য ঘোষের অন্য লড়াই

পিতার বদলির চাকরির সূত্রে মনোমোহন বিভিন্ন জায়গায় বড় হন—মুজফফরপুর, ভাগলপুর, পুরুলিয়া, ধানবাদের মত জায়গায়। ধানবাদ ইংলিশ হাই স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাশ করে তিনি ১৯২০ সালে স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হন। পরে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে বিজ্ঞানে পড়াশোনা শুরু করেন এবং ওগিলভি হোস্টেলে থাকতেন।

আরও পড়ুন- পোকা দানবের আতঙ্ক! বর্ষায় এই ঘরোয়া কায়দায় বাঁচান খাবার, শস্য

এই সময়ে তিনি স্বামী বিবেকানন্দ ও শ্রীঅরবিন্দের জীবন ও চিন্তাধারা গভীরভাবে অধ্যয়ন করেন। একইসঙ্গে আধ্যাত্মিক সাধনার দিকেও ঝুঁকে পড়েন। ১৯২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর, মাত্র ১৭ বছর বয়সে মনোমোহন দেওঘরে গুরু শ্রীশ্রী বালানন্দ ব্রহ্মচারীর কাছে যান। পার্থিব জীবন ছেড়ে ব্রহ্মচর্য বেছে নেন। গুরু প্রথমে তাঁর সংকল্প পরীক্ষা করেন, পরে দুর্গা মহাষ্টমীর দিনে তাঁকে দীক্ষা দিয়ে নতুন নাম দেন মোহনানন্দ ব্রহ্মচারী। 

আরও পড়ুন- বর্ষাতেও চাই কোরিয়ানদের মত উজ্জ্বলতা? ঘরের জিনিসেই মুখ রাখুন দাগমুক্ত

গুরু শিষ্যকে অসীম স্নেহে গ্রহণ করেন এবং ধীরে ধীরে আশ্রমের দায়িত্বভার অর্পণ করতে থাকেন। বিশেষত, শ্রীশ্রী বালা ত্রিপুরা সুন্দরী মা-এর সেবায় মোহনানন্দ মহারাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। ১৯৩৭ সালের ৯ জুন গুরু বালানন্দ ব্রহ্মচারীর প্রয়াণের পর দেওঘর আশ্রমের প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন মোহনানন্দ ব্রহ্মচারী। তাঁর নেতৃত্বে আশ্রম আরও প্রসার লাভ করে। শুধু দেওঘরেই নয়, তিনি বদ্রীনাথ ধাম, হৃষিকেশ, হরিদ্বার, বারাণসী, দুর্গাপুর, বাঁকুড়া, বহরমপুর, হাজারিবাগ-সহ নানা জায়গায় আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। 

দেশ-বিদেশে তাঁর অসংখ্য ভক্ত ও শিষ্য তৈরি হয়েছিল। তিনি ছিলেন সরল জীবনযাপন এবং আধ্যাত্মিকতার মূর্ত প্রতীক। ১৯৯৯ সালের ২৯ আগস্ট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির রিভার পার্ক হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মোহনানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ প্রয়াত হন। 

Mohananda Brahmachari