/indian-express-bangla/media/media_files/2025/08/08/rabi-2025-08-08-09-04-57.jpg)
Rabindra sculptures Bengal: ছবির বাঁদিকে শিল্পী অনিন্দ্য সেনের তাকলাগানো সব সৃষ্টি, ডানদিকে গলায় উত্তরীয় পরিহিত শিল্পী অনিন্দ্য সেন।
Rabindranath in modern art:ছোট থেকেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা পড়ে তাঁর প্রতি এক গভীর ভালোবাসা জন্মায় খেজুরির অনিন্দ্য সেনের। আজ সেই ভালোবাসাই পরিণত হয়েছে ধ্যান-জ্ঞান আর কর্মে। পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরির এই শিল্পী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কেন্দ্র করেই গড়ে তুলেছেন নিজের শিল্পজীবন। একশোরও বেশি রবীন্দ্রনাথের রূপে ভাস্কর্য নির্মাণ করে ইতিমধ্যেই তিনি নজর কেড়েছেন শিল্পমহলে।
ছোটবেলায় লেখাপড়ার পাশাপাশি ছবি আঁকা, গানবাজনা ও গাছ লাগানোর প্রতি অনুরাগ তৈরি হয় অনিন্দ্যবাবুর। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফল করলেও উচ্চশিক্ষার পথে কিছুটা ভাটার টান পড়ে। হলদিয়া গভর্নমেন্ট কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলেও মাঝপথেই পাঠ থেমে যায়। এরপর পরিবারের উদ্যোগে ভর্তি হন মেদিনীপুর আর্ট কলেজে, সেখান থেকে স্নাতক এবং পরে ভিনরাজ্য থেকে চিত্রকলায় স্নাতকোত্তর সম্পূর্ণ করেন।
প্রায় পাঁচ বছর স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতার পর পুরোপুরি নিজেকে সমর্পণ করেন ছবি আঁকা, ভাস্কর্য নির্মাণ, সঙ্গীত ও বৃক্ষরোপণের কাজে। তাঁরই উদ্যোগে গড়ে ওঠে "মেদিনী কলা কুঞ্জ"—যেখানে এলাকার প্রায় ১০০ জন ছেলে-মেয়েকে ভাস্কর্য, ছবি ও গান শেখানো হচ্ছে বিনামূল্যে।
আরও পড়ুন- Kolkata weather today :ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, বর্ষার তুফান মেজাজ দেখবে বাংলা!
অনিন্দ্যবাবুর দাবি, এখনও পর্যন্ত তিনি প্রায় ১০০-রও বেশি রবীন্দ্রনাথের ভাস্কর্য গড়েছেন। এছাড়াও তৈরি করেছেন প্রায় ১,৫০০ মনীষীদের মূর্তি ও ২,০০০-রও বেশি চিত্রকর্ম। কলা কুঞ্জে রোপণ করেছেন দুশোরও বেশি বিরল প্রজাতির গাছ।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলার স্কুলছাত্র ও শিল্পীদের তৈরি হস্তশিল্প নিয়ে ২০২১ সাল থেকে নিয়মিত প্রদর্শনী করে চলেছেন তিনি।
আরও পড়ুন- RG Kar Protest: আরজি কর কাণ্ডে জারি আপোষহীন লড়াই, বিচার ছিনিয়ে আনার দাবিতে ফের রাজপথে জনগর্জন
তাঁর তৈরি ভাস্কর্য শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, ছড়িয়ে পড়েছে দেশের নানা প্রান্তে—মধ্যপ্রদেশের “রোজ গার্ডেন”, মুর্শিদাবাদের বহরমপুর “দুর্গা মন্দির”-সহ একাধিক জায়গায়।
নিজের শিল্পকর্ম সম্পর্কে অনিন্দ্যবাবু বলেন,“ছোট থেকেই রবীন্দ্রনাথের বই পড়ে মনের অজান্তেই তিনি আমার জীবনের অংশ হয়ে গেছেন। এখন রবীন্দ্রনাথই আমার ধ্যান-জ্ঞান। আমি তাঁর দেখানো পথেই চলার চেষ্টা করছি। আমার স্বপ্ন জীবিত অবস্থাতেই শান্তিনিকেতনের মতো এক পরিবেশ গড়ে তোলা। আজকাল কবিগুরুর কবিতার দৃশ্য চোখে পড়ে না, তাই আমি আমার ভাস্কর্যের মাধ্যমে সেই চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করি।”
৮ আগস্ট, বাইশে শ্রাবণ—রবীন্দ্রপ্রয়াণ দিবস উপলক্ষে মেদিনী কলা কুঞ্জে বিশেষ অনুষ্ঠান হবে। সেই উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসবেন এই শিল্পকেন্দ্র দেখতে।
আরও পড়ুন-বিরাট বিপত্তি! ভেঙে পড়ল বাংলার বিখ্যাত সেতুর ওয়াটার ডিভাইডার
এদিকে পার্শ্ববর্তী চণ্ডীপুর এলাকায় গড়ে ওঠা “রবীন্দ্র পরিষদ” অনিন্দ্যবাবুর কর্মকাণ্ডকে স্বীকৃতি জানিয়েছে। সংস্থার সম্পাদক, শিক্ষক প্রতীক জানা বলেন,“রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে যে কাজ অনিন্দ্যবাবু করছেন, তা অভূতপূর্ব। আমরা গর্বিত। তাঁর কর্মকাণ্ড জেলা ছাড়িয়ে একদিন দেশ-বিদেশেও পৌঁছাবে, সেই আশায় আমরা তাঁকে সম্মান জানিয়েছি।”